উল্লাপাড়া সংবাদদাতা
মুরগির খাবার, ঔষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না ডিমের দাম। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসান গুনছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার লেয়ার মুরগীর খামারিরা। এতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন নতুন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কর্মসংস্থান হারানোর উদ্বেগে রয়েছেন শ্রমিকরাও। উল্লাপাড়ার গ্যাস লাইন এলাকায় ২০২৪ সালে লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলেন এস এম ইকবাল হোসেন। ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এই খাতে বিনিয়োগ করেন। তাঁর খামারে রয়েছে ২ হাজার ৬০০ মুরগি। খামার পরিচালনায় তিনি নিজেসহ পাঁচজন কাজ করেন। ইকবাল হোসেনের হিসাবে, গত দুই মাসে তিন ধাপে মুরগির খাবারের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ওষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ। কিন্তু ডিমের বিক্রয় মূল্য সেই অনুপাতে না বাড়ায় প্রতিদিনই লোকসান হচ্ছে তাঁর।
খামারি ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১০ টাকায়। এতে প্রতিটি ডিমে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এই হিসাবে মাসে তাঁর লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন এভাবে লোকসান চলতে থাকলে খামার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা ও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা।
ইকবালের খামারে কাজ করেন আবু বকর, ইসমাইল ও রেবেকা খাতুনসহ কয়েকজন শ্রমিক। খামারের আয় কমে যাওয়ায় তাঁরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। খামারটি বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের নিয়মিত আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে তাঁদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে সমস্যা হতে পারে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শেখ এম এ মতিন বলেন, খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাতের উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। উপজেলায় শতাধিক লেয়ার খামার রয়েছে। এসব খামারে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হলে খামারিদের লোকসান আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে।