যমুনার কথা প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে বসছে জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় তিনশ বছর ধরে এই মেলা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপুজার শুরু দিন থেকে ১০দিন যাবত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবছর পুজার ১০দিন পর এই সোনামুখী মেলা শুরু হয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রতিবছর ভিড় জমে অসংখ্য মানুষের। মেলাকে কেন্দ্র করে সোনামুখী ও আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমূখর আমেজ।
মেলার বুক চিরে সিরাজগঞ্জ সোনামুখী ভায়া বগুড়ার ধুনট-শেরপুর হয়ে আন্তঃজেলা সড়ক এই মেলার গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আশপাশের অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে আসেন এখানে বেচাকেনার উদ্দেশ্যে।
২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গা পুজা ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষে স্কুল কলেজ ছুটি থাকে। বিশেষ করে সরকারি ছুটি থাকে এই শারদীয় দুর্গাপুজায়।
ছুটির দিনে দেশেী বিভিন্ন প্রান্তে মেলার অনুমোদন প্রদান করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কিন্তু শারদীয় দুর্গাপুজা শুরুর ১০দিন পর স্কুল-কলেজ ছুটি শেষ করে খোলার দিন থেকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে শুরু হয়েছে জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা।
মেলায় ২টি সার্কাস, মৃত্যুকুপ, মোটরসাইকেল খেলা, জাদুতে গান বাজনার তীব্রে শব্দে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সামনে শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রস্তুতি না নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মেলাতে অবস্থান করছে। গভীর রাত পর্যন্ত মেলাতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করায় দিনে স্কুল কলেজে না গিয়ে ঘুমাচ্ছে।
বিশেষ করে এই মেলাটি এলাকাবাসির কাছে পরিচিত কাঠের মেলা হিসেবে। কারণ আশপাশের গ্রামের কারিগরেরা মেলার দুই-তিন মাস আগে থেকেই কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করে রাখেন এবং মেলা শুরু হলে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে তা বিক্রির জন্য আনেন। সোফাসেট, আলমিরা, খাট, ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, মিটসেফ, ডাইনিং টেবিলসহ নানা আসবাব পাওয়া যায় এ মেলায়। শুধু কাঠ নয়, স্টিলের আলমিরা, খাট, মিটসেফসহ আধুনিক আসবাবপত্রও বিক্রি হয় এখানে।
প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার আসবাবপত্র বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা দোলা সরকার।
এবার দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এই মেলায় আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু ছুটি শেষ দিন মেলা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যাওয়া বাদ দিয়ে মেলার দিকে ঝুকছে।
আশপাশের ১০-১২ গ্রামের জামাই মেয়েদের নাইওর নিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আর পরিবারে চলে আপ্যায়ন। ধুতি, শাড়ি, পাঞ্জাবি, জামাকাপড়, ছাতি, পাটা দেওয়া-নেওয়া মেলায় গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের আবহ ফুটে ওঠে।
চিত্তবিনোদনের জন্য একসময় মেলায় আসতো একাধিক যাত্রাদল। তবে এবার তা হচ্ছে না। পরিবর্তে ২টি সার্কাস, নাগর দোলা, নৌকা দোলা, পুতুল নাচ ও মোটরসাইকেল শো যুক্ত হয়েছে বিনোদনের আয়োজনে।