রেজাউল করিম, বেলকুচি প্রতিনিধি:
কার্তিক মাসের শুরুতেই যমুনাপাড়ের জনপদ সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জানান দিচ্ছে শীতের আগাম বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশা আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে ফুটে উঠছে ঋতু পরিবর্তনের চিত্র। যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে হেমন্তের শুরুতেই অনুভূত হচ্ছে মৃদু শীতের পরশ।
আগাম শীতের এই আবহকে ঘিরে বেলকুচির চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় শুরু হয়েছে নানা কর্মচাঞ্চল্য ও শীতের প্রস্তুতি। বিশেষ করে যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন চলছে রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক তোড়জোড়।
বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলি জমে উর্বর হয়ে ওঠা এসব জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নতুন মৌসুমে মুলা, পালং শাক, লাল শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, ওলকপি, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুন ও আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত তাঁরা।
জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগেই ফসল হাটে-বাজারে তুলতে চান কৃষকেরা। এ লক্ষ্যে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন ও চারা রোপণের কাজ।
উপজেলার রাজাপুর, বেলকুচি সদর, বড়ধুল ও ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের নদীঘেঁষা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা নাঙল ও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে ঝরঝরে করছেন এবং বীজতলা তৈরি করছেন। কেউ কেউ ক্ষেতে সেচ দেওয়া ও নিড়ানির কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষায় যমুনার বন্যার পানিতে পলি জমে চরের মাটি বেশ উর্বর হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময়ে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।
কৃষিকাজের পাশাপাশি চরাঞ্চলের প্রতিটি গৃহস্থালিতেও বইছে শীতবরণের হাওয়া। ঘরবাড়ি মেরামত, পুরোনো কাঁথা রোদে শুকানো এবং শীতের গরম কাপড়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ছাড়া খড়কুটো জমিয়ে গবাদিপশুকে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার ব্যবস্থা এবং গোখাদ্য সংরক্ষণেও মনোযোগ দিচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
হেমন্তের মিষ্টি সকালে ভোরের কুয়াশার চাদর আর বিকেলের ঠান্ডা হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে—হাড়কাঁপানো শীত খুব বেশি দূরে নয়। আর সেই শীতকে বরণ করতে বেলকুচির চরাঞ্চলের মেহনতি মানুষ এখন থেকেই নিচ্ছেন সর্বাত্মক প্রস্তুতি।