শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

মানবতার ফেরিওয়ালা হাজী আব্দুস সাত্তার

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬.৫৭ পিএম

আবদুস সাত্তার। যিনি অল্প বয়সেই হজব্রত পালন করেছেন এবং বর্তমানে হাজী সাত্তার নামে পরিচিত। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তিনি সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অসহায় মেয়ের বিয়ের আয়োজন থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় বহন করে মানবিকতার নানা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। হাজী সাত্তার যদি জানতে পারেন, কোনো অসহায় ও দরিদ্র মানুষ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তায় ভুগছেন। তাহলে তিনি নিজেই তার দলবল নিয়ে ওই রোগীর কাছে ছুটে যান। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, ঔষুধ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়ও তিনি বহন করেন। সিরাজগঞ্জ শহরে তিনি এমন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, যা মানুষের উপকারে নিয়োজিত থাকার বিরল উদাহরণ। সিরাজগঞ্জ শহরে শত শত কোটিপতি থাকলেও হাজী সাত্তারের মতো দানশীল মানুষ খুব কমই আছেন। একসময় তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকেই তিনি নিজেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। ব্যবসায়ও তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। হাজী সাত্তারের প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হাজার হাজার পরিবারের সদস্যকে দিনে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

সম্প্রতি হাজী সাত্তার সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কাদাই এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হোটেল নির্মাণ করেছেন। যার নাম হোটেল ছোঁয়া মনি। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক ও ভ্রমণকারীরা এই উন্নতমানের হোটেলে এসে রাত্রিযাপন করেন। হোটেলটির পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও নিরিবিলি। আন্তর্জাতিক মানের এই হোটেলের কারণে সিরাজগঞ্জে মানসম্মত আতিথেয়তার পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ শহরে হাজী সাত্তার একটি নতুন ঐতিহ্যেরও সূচনা করেছেন। তিনি আধুনিক পৌর শহরকে সবুজ নগরীতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। পুরো শহরজুড়ে গাছপালা ও ফলজ বৃক্ষ রোপণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, তাদের বিশ্রাম ও প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় এসব গাছের মাধ্যমে। একই সঙ্গে অসহায় রিকশাচালকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজী সাত্তার। অতীতে দারিদ্র্যের কারণে অনেক রিকশাচালক ঋণের বোঝা বহন করতে পারতেন না। তাদের সহায়তায় হাজী সাত্তার নিজ উদ্যোগে শত শত রিকশাচালককে রিকশা কিনে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বই, নোট বুক, কলম, পেন্সিলসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। স্কুলের পোশাক, জুতা, বই এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াশোনার খরচও বহন করছেন। যাতে কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রতিনিয়ত তিনি শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।

সিরাজগঞ্জ শহরে হাজী সাত্তারের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও কাজের অগ্রগতি অনেকেরই নজর কেড়েছে। মানুষের মুখে মুখে তার উদারতার প্রশংসা শোনা যায়। পৌরসভার মধ্যে অনেক ধনী মানুষ থাকলেও হাজী সাত্তারের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, এমন মানুষ খুব কম।

এছাড়া হাজী সাত্তার নিজে এবং তার দল মিলে শহর পরিষ্কার রাখারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য প্রতিদিন ভোরে নিজেদের হাতে পরিষ্কার করছেন। অতীতে পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়ররা শহরবাসীর দুর্ভোগের কথা খুব একটা জানতে চাইতেন না। বরং করের বোঝা মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো। হাজী সাত্তার আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণায় শহরবাসী অনেক খুশী। এছাড়াও হাজী সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থায়নে একটি মানবিক সেবা সংস্থা—হাজী সাত্তার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড মানবিক কাজের অগ্রগতির দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

যা লিখে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। লেখকঃ হাবিবুন নাহের রুমা, সাংবাদিক – Daily Country Today

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা