শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

রায়গঞ্জে মৎস্য প্রকল্পের খুঁটি-তার ব্যক্তিগত বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১.১১ পিএম

মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে ৬০ থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে এসব নির্মাণসামগ্রী তাঁর নিজ বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেছেন, খুঁটি ও কাটা তার তিনি নিজের টাকায় তৈরি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে একটি ট্রাকে করে খুঁটি ও কাটা তার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় প্রকল্পের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী এসব সামগ্রী ট্রাকে তুলতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ট্রাকটি মাসুদ সরকারের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

পথে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাকটি থামান। তাঁরা এসব নির্মাণসামগ্রী সরকারি সম্পদ নাকি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তা জানতে চান। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ‘মাসুদ স্যার’ এসব সামগ্রী তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছেন। তবে সরকারি ছুটির দিনে প্রকল্প কার্যালয় থেকে এসব সামগ্রী বাইরে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তাঁরা।

ট্রাকচালক আব্দুর রহমান খন্দকার বলেন, খুঁটি ও তার কার, তা আমি জানি না। তবে মাসুদ স্যার আমাকে খুঁটি ও তারগুলো তাঁর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী মালামালগুলো নিয়ে যাচ্ছিলাম। এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার নিজে উপস্থিত থেকে খুঁটি ও তারগুলো ট্রাকে তুলে দিয়েছিলেন।’

খুঁটিগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অফিসের পুকুরে ওয়াল নির্মাণের জন্য খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হলে খুঁটিগুলো কার্যালয়েই পড়ে ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকার বলেন, ‘আমি নিজের টাকায় খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছি।’ তবে নিজের অর্থে এসব সামগ্রী তৈরি করার দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

এদিকে বিষয়টি জানার পর নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া খুঁটি ও তার জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জাব্বার।

তিনি বলেন, মৌখিক অভিযোগ ও সরেজমিনে বিষয়টি জানার পর খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

অন্যদিকে রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আপনাদের সহকর্মীর মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে মাসুদ সাহেব ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া খুঁটি ও তার সরকারি সম্পদ, নাকি ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব নির্মাণসামগ্রীর মালিকানা ও কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা