মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ সংবাদদাতা:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্যচাষ প্রকল্পের সরকারি মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, তদন্তের দিনই প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁরা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিমগাছী মৎস্যচাষ প্রকল্প কার্যালয়ে তদন্ত ও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। কমিটির সদস্যসচিব রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিম আক্তার এবং সদস্য পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিমগাছী মৎস্যচাষ প্রকল্প থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও প্রায় ৭৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের তিন বান্ডিল কাঁটাতার একটি ট্রাকে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকে দেন। পরে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার মিয়া মালামালগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের উদ্যোগ নেয় মৎস্য অধিদপ্তর। গত ২৫ অক্টোবর জারি করা চিঠিতে সোমবার সকাল ১০টায় প্রকল্প কার্যালয়ে তদন্ত ও শুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং মো. মাসুদ রানার অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল, সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বাবু, সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি প্রবীর গুন লিটন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দে স্থাপিত খুঁটি ও কাঁটাতার প্রকল্পের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের গাছ কেটে বিক্রি, কাঠ দিয়ে আসবাব তৈরি করে বাসায় নেওয়া এবং হ্যাচারিতে উৎপাদিত মাছের রেণু বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। প্রকল্পে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেন বিক্ষোভকারীরা।
তাঁরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানান।
তবে খুঁটি ও কাঁটাতার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মাসুদ রানা। তাঁর দাবি, খুঁটি ও কাঁটাতার তিনি নিজের অর্থে তৈরি করেছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে তিনি কোনো নথিপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, খুঁটি ও কাঁটাতার সরকারি সম্পদ, নাকি ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় থাকবে।
তদন্ত শেষে কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।