যমুনার কথা প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলসহ বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক ও ক্ষুদ্র-প্রান্তিক কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন নার্সারিতে ভালো মানের চারা উৎপাদন হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেড়েছে। পাশাপাশি চারার দাম ভালো থাকায় খুশি নার্সারি মালিক ও কৃষকেরা। অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরও নার্সারি ব্যবসার মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ফলজ, বনজ, ঔষধি, ফুল এবং দেশি-বিদেশি জাতের কলমের চারার নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারি পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা। তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভের আশায় অনেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা জমি লিজ নিয়ে নার্সারি গড়ে তুলেছেন।
জেলার মধ্যে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নার্সারির সংখ্যা বেশি। নার্সারি মালিকেরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগের অনুমোদন নিয়ে এসব নার্সারি পরিচালনা করছেন। চলতি মৌসুমে বেশির ভাগ নার্সারিতে ভালো মানের চারা উৎপাদন হয়েছে। বাজারে চারার দামও ভালো থাকায় লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ কান্দাপাড়া গ্রামের ফিরোজ মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২) ও তাঁর স্ত্রী পারভীন খাতুন (২৬) যৌথভাবে কান্দাপাড়া-পাইকশা আঞ্চলিক সড়কের পাশে ‘ভাই ভাই নার্সারি’ নামে পাঁচটি নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তাঁরা এক বছরের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় সাড়ে ৯ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নার্সারিতে বিনিয়োগ করেছেন।
‘ভাই ভাই নার্সারি’র পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমিসহ প্রতিদিন পাঁচজন শ্রমিক নার্সারিতে কাজ করেন। তাঁদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করে। আমার স্ত্রী নার্সারির মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।”
তিনি জানান, তাঁদের নার্সারিতে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, মালটা, বাদামি, সুপারি, লেবু, সবেদা, কদবেল, বেল, লিচু, বড়ই, আপেল, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলজ ও কলমের চারা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতের বনজ, ফুল ও ঔষধি চারাও উৎপাদন করা হয়। বগুড়া, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করে এসব চারা উৎপাদন করা হয়।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “প্রতি বছর নার্সারিতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ থাকে। এই লাভের টাকা দিয়েই সংসার চলে। পাশাপাশি নার্সারিকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে, এতে আমাদের কিছুটা স্বচ্ছলতাও ফিরেছে।”
নার্সারি মালিকেরা জানান, স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার চারা ব্যবসায়ীরা নার্সারি থেকে চারা কিনে নিয়ে যান। পরে এসব চারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রতিবছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত বৃক্ষ মেলায় নার্সারির চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। মেলায় ভালো অবস্থানের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একাধিকবার পুরস্কারও পেয়েছেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নার্সারি ব্যবসায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন বিভিন্ন জাতের চারা সহজলভ্য হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ বলেন, “জেলার বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্সধারী নার্সারি মালিকদের নার্সারি পরিচালনা ও চারা উৎপাদনের বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরামর্শের ফলে তাঁরা বিভিন্ন জাতের ভালো মানের চারা উৎপাদন করছেন। বাজারে চারার দাম ভালো থাকায় নার্সারি মালিকেরাও এখন খুশি। বিশেষ করে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেছে।”