শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা -চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০.০১ এএম

যমুনার কথা ডেস্ক

মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি হবে তার চতুর্থ বিদেশ সফর। সরকারের নীতিনির্ধারক ও জাপান প্রবাসীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতিসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে, এতে সন্দেহ নেই। এমনকি দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। পাশাপাশি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটার বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের ঘোষণাও আসতে পারে টোকিও থেকে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রত্যাশাও রয়েছে অনেক। তাদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবা আরও আধুনিকীকরণ, ভিসা ও গাড়ি ব্যবসায় এলসি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, জাপানে ব্যবসায়িক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, জনশক্তি রপ্তানি তথা কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা, বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রবাসীদের সমস্যার তথ্যভিত্তিক সমাধানের মতো বিষয়গুলো। অবশ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চার দিনের সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক: সরকারের নীতিনির্ধারক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিশন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করতে পারেন। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ ছাড়া, জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কৃষি খাত, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পাবে। সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ তথা জনশক্তি রপ্তানি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসূচি চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল  বলেন, জাপান বাংলাদেশের বহু পুরোনো এবং পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। প্রায় ২০ বছর পর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সফরে দেশটিতে যাবেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। সফরসূচি চূড়ান্ত করা হলে জানা যাবে।

যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ জাপান সফর: জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর। এর আগে গত জুনে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সফর শুরু হয়। অতি সম্প্রতি তিনি পাঁচ দিনের ফলপ্রসূ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাপান সফরকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় জাপান সর্বদাই বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত ও নিরপেক্ষ বন্ধুদেশ। এই দ্বিপক্ষীয় সফরটি দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’কে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করবে। বিশেষ করে নতুন সরকারের নীতি ও ভিশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও কৌশলগত দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। এ সফরে দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলে তা বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের উদীয়মান শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ সুগম করবে। ফলে দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতার অংশ নয়; বরং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, এলডিসি-উত্তর অর্থনৈতিক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগের নতুন নতুন খাত উন্মোচনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।

জাপান প্রবাসীরা উচ্ছ্বসিত, আছে নানা প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে জাপান প্রবাসীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে তাদের আছে নানা প্রত্যাশাও। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা ইতোমধ্যে একাধিক প্রস্তুতি ও ব্যবসায়িক মতবিনিময় সভা করেছেন। যেখানে জাপান বিএনপি, প্রবাসী ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হোক। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং জাপানে অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।

জাপান বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী রেজা মীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত খুশির ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই যাব। ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, জাপান কমিউনিটির ব্যানারে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, ব্যবসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা বিমানের ফ্লাইট চালু ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন থেকে সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার সরাসরি টোকিও-ঢাকা বিমান চলাচল করবে ইনশাআল্লাহ। এতে প্রবাসীদের অনেক উপকার হলো।

ব্যবসায়ী নেতা মাসুম জাকির বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে আসছেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। জাপানে বিভিন্ন রকমের অসংখ্য ব্যবসায়ী আছেন। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও দেশের কল্যাণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করার জন্য একটি চেম্বার খুবই প্রয়োজন এবং সেটি দরকার। পাশাপাশি আমরা চাইব প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা জরুরি। কেননা, দলীয় মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং কার্যকর সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া প্রয়োজন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

জাপান প্রবাসী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। কেননা, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে কার্যকর আলোচনা হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা এ ক্ষেত্রে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারেন। তারা জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতি, বাজারের চাহিদা এবং স্থানীয় যোগাযোগ সম্পর্কে জানেন। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাপানি কোম্পানির যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব। এজন্য প্রবাসী উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও হালনাগাদ ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক থাকলে আরও ভালো হবে। যেখানে বিনিয়োগের আগ্রহ, ব্যবসায়িক দক্ষতা, সম্ভাব্য প্রকল্প এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নথিভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

নতুন ফ্লাইট ঘোষণায় উল্লাস প্রবাসীদের: জানা গেছে, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবি ছিল ঢাকা-টোকিও সরাসরি ফ্লাইট চালু করা। তবে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত ২৬ জুলাই রাত থেকে ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট ফের চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি করে ফ্লাইট চলাচল করত। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান নিয়মিত চলাচল করবে। বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধির খবর জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এক নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। কেননা, ঢাকা-নারিতা রুটটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একমাত্র সরাসরি আকাশপথ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুনরায় ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও ভ্রমণকারীরাও সরাসরি বিমান যোগাযোগের সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ও বিমানের নতুন ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা। তারা মনে করেন ফ্লাইট বৃদ্ধি পাওয়ায় টোকিও ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও সুলভ হবে।

বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারত্ব চায়। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে প্রাধান্য দেবে। তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার। কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা