রায়গঞ্জ সংবাদদাতা:
শুধু নদী খনন নয়, ঐতিহাসিক প্রবাহপথ পুনরুদ্ধার, দখল-দূষণ বন্ধ এবং ভাঙন রোধের মাধ্যমে ফুলজোড় নদীর পুনর্জন্ম চান সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের নদীগর্ভে বিলীন জমি উদ্ধারের উদ্যোগ এবং ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের দীর্ঘ ৩০ বছরের আবাসন সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার বিকেলে উপজেলার চান্দাইকোনায় মুন্ডুমালা মহাশ্মশান চত্বরে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন মুক্তজীবনের যৌথ অংশগ্রহণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসুচি চলাকালে ফুলজোড় নদীর ঐতিহাসিক প্রবাহপথ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদনপত্র পাঠ করেন বাপার সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও মুক্তজীবনের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক দীপক কুমার কর। আবেদনে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস মানচিত্র, পুরোনো ভূমি রেকর্ড এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে নদীর প্রকৃত প্রবাহপথ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই, ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের বরাদ্দ করা জমির অধিকার নিশ্চিত এবং কেশরখালি খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে নদী খনন, ভাঙন প্রতিরোধ এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করা হয়।
কর্মসুচিতে উপস্থিত বাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ডা. চন্দন কুমার সরকার, মুক্তজীবনের সদস্য আলীম তালুকদার এবং মুন্ডুমালা মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী জীবনকৃষ্ণ কুণ্ডু, শ্রী রতন কুমার কুণ্ডু, সহসভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ কুমার মহন্ত প্রমুখ।