কামারখন্দ সংবাদদাতা:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের পাইকশা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বিক্রয় মূল্যের অসামঞ্জস্যের কারণে সংকটের মুখে পড়েছে। সুতা, রং ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না উৎপাদিত কাপড়ের দাম। ফলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না তাঁত ব্যবসায়ীরা। এতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রবীণ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল হক সরকার বলেন, “বর্তমানে সুতা, রং ও কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় তাঁতশিল্পের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সুতা কেনা, রং করা ও কাপড় তৈরিতে আগের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে কাপড় বিক্রি করে সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা চাই, তাঁতিরা যেন উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য পান এবং এ শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে।”
স্থানীয় তাঁত শ্রমিক রজব আলী বলেন, “সুতা, রং ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ায় তাঁতশিল্পের ব্যবসায়ীরা এখন নানা সমস্যায় পড়ছেন। কাপড় তৈরি করতে খরচ বেশি হলেও বিক্রির সময় সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করি। তাই তাঁতশিল্প ভালোভাবে চললে আমাদের কাজ ও সংসার চালানোও সহজ হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছি না।”
ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ
সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা। তাই পাইকশা গ্রামের তাঁতশিল্পের সমস্যা সমাধানে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বাজার সম্প্রসারণ, পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং অনলাইন বিপণনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁতিদের উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড সিরাজগঞ্জের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা অমৃত সরকার বলেছেন, “তাঁতশিল্পের বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কাঁচামালের দাম সহনীয় রাখা, সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁতিদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”