শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

সম্পাদকীয় -মা ইলিশের সুরক্ষায় ফিরুক বাঙালির ঐতিহ্য

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬.৩০ পিএম

ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় মাছ নয়, এটি বাংলাদেশের নদী, মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ইলিশ মাছ দেশের দ্বিতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (এও) পণ্য হিসেবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের ৬০-৬৫ ভাগ ইলিশ বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়। তাই সরকার ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণটি খুব সহজ। আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে-পরে মা ইলিশ নদীর মিঠা পানিতে এসে ডিম ছাড়ে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন ইলিশের প্রজন্ম। সাধারণত একটি মা ইলিশ আকৃতি ও ওজনভেদে প্রতিবারে ৩ লক্ষ থেকে শুরু করে প্রায় ২৫ লক্ষ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। তাই এই সময় নদীতে মাছ ধরলে একটি মা ইলিশের সঙ্গে নষ্ট হতে পারে বিপুলসংখ্যক ভবিষ্যৎ ইলিশের সম্ভাবনা। তাই জাতীয় মাছ ও জিআই পণ্য ইলিশের উৎপাদন রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি ও সময়োপযোগী। এক সময় উত্তরবঙ্গের প্রবহমান যমুনা নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। সিরাজগঞ্জ ও এর আশপাশের অঞ্চলের মানুষের খাবারের তালিকায় যমুনার ইলিশের এক আলাদা পরিচিতি ও কদর ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট, ডুবোচর সৃষ্টি এবং অসাধু উপায়ে জাটকা ও মা ইলিশ নিধনের কারণে যমুনায় এখন ইলিশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বর্তমানে দেশের অনেক স্থানে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা না পড়ার পেছনে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও নিষিদ্ধ জালে জাটকা নিধনই মুখ্য কারণ। তবে এখানে জেলেদের কথাটিও ভুলে গেলে চলবে না। একজন জেলের কাছে ২২ দিন নদীতে না যাওয়া মানে ২২ দিন আয় বন্ধ থাকা। তাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি। সরকার ভিজিএফ সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। এখন প্রয়োজন প্রকৃত জেলে যেন সময়মতো সহায়তা পান। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা দরকার। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অভিযান চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অভিযান যেন কেবল কয়েকটি দিনের কর্মসূচি না হয়। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি সারা বছরই দরকার। বিশেষ করে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল,চায়না দোয়াড়ি জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুতরাং ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসন, মৎস্যঅধিদপ্তর, জেলে, ক্রেতা, বিক্রেতা ও আমাদের সকলের। একদিন আবার যমুনার জেলেদের মুখে শোনা যাক— “নদীতে ইলিশ ফিরেছে।” সেই দিনের জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানতে হবে, জেলেকে বাঁচাতে হবে। মা ইলিশ রক্ষা করা গেলেই জাতীয় মাছ ইলিশ আবার সবার নাগালে আসবে এবং সকল শ্রেণির মানুষের খাবারের প্লেটে স্থান পাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা