যমুনার কথা প্রতিবেদক :
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যমুনা এবং এর শাখা নদীগুলো থেকে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। শুধু তাই নয়, বাদ যাচ্ছে না নদীর তীরও। এ কারণে জামালপুর-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কও পড়েছে হুমকিতে। সঙ্গে নদীর তীর, আশপাশের স্থাপনা ও ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বাড়ছে আর বালু সরিয়ে গর্ত করায় ইতোমধ্যে নদীতীরে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলা বালু উত্তোলনের সময় অভিযানের মুখোমুখি হয় বিধায় প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে রাতের বেলা বালু উত্তোলন করছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে যমুনার পূর্ব তীর বাঁশুরিয়া, রাধানগর ও পিংনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মিনি ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। আর ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু প্লাস্টিকের পাইপের সাহায্যে বাল্কহেডে ভরা হচ্ছে। পরে সেই বাল্কহেডে করে আনা বালু জামালপুর-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে নদীর পারে এনে পাহাড়ের মতো স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে মজুতকৃত বালু ট্রাকবোঝাই করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা শুধু সরিষাবাড়ী উপজেলার লোক নয়, এসব বালু উত্তোলনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর এবং বগুড়ার বালু ব্যবসায়ীরা জড়িত রয়েছে। তারা বালুমহাল ইজারা নেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এসব জায়গা থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন করছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন গেল বছর বেশ কয়েকবার এসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে শাস্তি দেয়।