যমুনার কথা প্রতিবেদক
জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে তিনটি ব্লকে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে ২৪০টি সোলার প্যানেল। সূর্যের আলো থেকে এসব প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে ১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ কার্যালয়ের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সাশ্রয় হচ্ছে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ছুটির দিনসহ যেসব সময়ে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকে, তখন সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেসকোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানান, রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট চালুর পর প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ উদ্যোগ।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে। জেলাজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে অন্যান্য সরকারি ভবনের ছাদেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি জানান, জেলার সাতটি পৌরসভায় রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ৩০ লাখ টাকা করে এবং উপজেলাগুলোতে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দের ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।