যমুনার কৃষি কথা
সিরাজগঞ্জ একটি কৃষিপর্ধান জেলা। এ জেলায় ধান, সরিষা, ভুট্টা ও পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। তবে অধিক ফলনের আশায় কৃষকদের অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া কীটনাশক জলাশয়ে মিশে জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ এলাকার কৃষক আলহাজ মো. হাবিউজ্জামান জানান, সচেতনতার অভাবে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে জমির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত বছর মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিঘাপ্রতি প্রায় দুই মণ সার দিলেও এবার আশানুরূপ ফলন নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি। সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাজরা ও ফুতি পোকার আক্রমণ রোধে বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় খরচ বাড়ছে। এছাড়া জমিতে আগের মতো সাপ, ব্যাঙ ও পাখি জাতীয় উপকারী প্রাণী আর দেখা যায় না। শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, বাধ্য হয়েই ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জমিতে সুষম মাত্রায় সার ও পর্যাপ্ত জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত কীটনাশকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কৃষকদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, ‘খামারী অ্যাপস’ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা বলেন, কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় শতকরা ৫ ভাগ জৈব সার জমিতে থাকা প্রয়োজন। রাসায়নিক ও জৈব সারের সুষম সমন্বয় এবং অনুমোদিত মাত্রায় সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ঠিক রাখা সম্ভব। এদিকে সচেতন মহল সিরাজগঞ্জে জৈব সারের ঘাটতি দূর করতে সার উৎপাদনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।