উল্লাপাড়া প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় দরপত্র প্রক্রিয়া, মূল্যায়ন ও রেট অ্যানালাইসিসে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল কবিরের বিরুদ্ধে। দরপত্রের শর্ত ও সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ তিনটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী ঠিকাদারদের দাবি, ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও বিজ্ঞপ্তিতে শুধু উল্লাপাড়া পৌরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে দরপত্রের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঠিকাদারদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা মৌখিকভাবে আপত্তি জানালে পরে ওটিএম পদ্ধতিতে সব দরপত্র বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়। তবে দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, একজন ঠিকাদার অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম দর প্রস্তাব করেছেন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দরপত্রের রেট অ্যানালাইসিস চাওয়াসহ বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট দরপত্রের যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে গড় মূল্যায়নের জন্য রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোটেশন স্টেটমেন্ট (সিএস) অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল কবির বলেন, ‘সব নিয়ম মেনেই সিএস অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘দরপত্রসংক্রান্ত নীতিমালা পৌর প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন। তবে আমরা এলটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি।
দরপত্রটি ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হলেও পরে এলটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী ঠিকাদারেরা।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রায়হানুল ইসলাম কে মুঠো ফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।