যমুনার কথা ডেস্ক
সিরাজগঞ্জে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের বাম্পার ফলন দেখে দীর্ঘদিন পর কৃষকদের মুখে তৃপ্তি ও আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো পরিচর্যা করায় চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ধানের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জেলাজুড়ে পুরোদমে এই ধান কাটা শুরু হয়। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেতের পাকা ধান কেটে তা ঘরে তোলা এবং মাড়াইয়ের কাজে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৭৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধানের শিষগুলো বাতাসে দুলছে, যা কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম জাতের ধান ঘরে তোলার পর অনেকেই এই জমিগুলোতে পরবর্তী সময়ে আগাম সরিষা চাষের পরিকল্পনা করছেন, যা তাঁদের দ্বিগুণ আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ গ্রামের কৃষক হাবিউজ্জামান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের শিষ পুষ্ট হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার রতনকান্দি এলাকার কৃষক আবুল হোসেনও।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমনের ভালো ফলন হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, “জেলায় ৭৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ধান কাটা ও সংরক্ষণ করতে পারেন, সেজন্য মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”