শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬.১৩ পিএম

উল্লাপাড়া সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের বনবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর দখল করা ছয়টি ঘর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে প্রশাসন। এসব ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস না করায় অন্যরা ঘরগুলো দখল করে বসবাস করছিল। এ বিষয়ে দৈনিক যমুনার কথা পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন ঘরগুলো উদ্ধারে উদ্যোগী হন।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার ঘরগুলোতে তালা দিয়ে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘর দখল ও বিক্রিসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেন প্রকল্পের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজখবর নিয়ে ছয়টি ঘর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে ঘরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে নির্মিত বনবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এ ৫০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ছয়টি ঘরের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে সেগুলো ছেড়ে চলে যান। এরপর ঘরগুলো কিছুদিন তালাবদ্ধ ছিল। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ছয় ব্যক্তি সেখানে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে তারাও ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীর যোগসাজশে ঘরগুলো নিজেদের দাবি করে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেনের নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি পাঁচটি ঘর ব্যবহার করতেন এবং সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীর নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি দুটি ঘর দখলে রেখেছিলেন। প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বাসিন্দাদের হয়রানি করার অভিযোগও করেছিলেন তারা।

উল্লাপাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার বলেন, ‘তাদের নামে ঘরের কোনও দলিল নেই। তারা বিনা অনুমতিতে সেখানে ছিলেন। ইউএনওর মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে ঘরগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছি।’

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে খোঁজ নিতে সার্ভেয়ারকে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকজনের নামে ঘর বরাদ্দের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ছয়টি ঘর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে ঘরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা