জহুরুল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ১২২নং চরঘুগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং জোরপূর্বক বৈধ আবেদন ফেরত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চরঘুগাট গ্রামের বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যের সন্তান মিজানুর রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি প্রার্থী করে গ্রামবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন জমা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে। আবদুল হাফিজ নামের অন্য এক ব্যক্তি সভাপতি হওয়ার জন্য বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখায়। অনায্যভাবে আরেকটি আবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুজ্জামান ও উচ্চমান সহকারী একরামুল হক নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুত বা বিভাগীয় শাস্তির হুমকি প্রদান করে সাদা কাগজে জোরপূর্বক লিখিয়ে নেয়।পরে বৈধ আবেদনটি ফেরত নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগকারীকে ফোনে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রমাণ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সম্বলিত মেমোরি কার্ডও অভিযোগপত্রের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মিজানুর রহমান জানান, “স্কুল কমিটির আবেদনে সরকারি বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরম অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক। সেই সাথে যোগ্য ব্যক্তিরা যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। ওই ক্লাস্টারের দায়িত্ব আমার ওপরে থাকলেও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন সম্পর্ক আমি কিছু জানি না।
কমিটি নিয়ে যখন কাজ করছিল তখন আমি একটি ট্রেনিংয়ের কারণে ছুটিতে ছিলাম। এসময় তিনি দাবী করে বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিনা কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাহিদা ইয়াসমিন জানান, আমরা ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ম্যানেজি কমিটি’র জন্য দু পক্ষের দুটি কমিটি পেয়েছিলাম। দুটি কমিটি’রই বৈধ কাগজ পত্র চেয়ে প্রধান শিক্ষককে নোটিশ করি। একটি কমিটি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে। আরেকটি কাগজপত্র দেখাতে না পেরে তা উত্তোলন করে নিয়ে গিয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, আমরা চরঘুগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি বিষয় নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে বিষয়ে সামনে শিক্ষা মিটিংয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।