দিল্লির যন্তর মন্তরে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার তাদের আটক করা হয়েছে। এটি স্বাভাবিক গ্রেপ্তারের কোনো প্রক্রিয়া নয়।
কংগ্রেস সূত্র দাবি করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবি জানানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখনো ওই এলাকায় অবস্থান ধর্মঘটে বসে আছেন। তারা পুলিশের চলে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যেতে বাধা দেওয়ার পর আকাশবাণী ভবনে হঠাৎ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময়ও গান্ধীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, আজ তারা আগাম কোনো অনুমতি নেননি। মধ্য দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজের পর সাংসদেরা যন্তর-মন্তরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে, রাহুল গান্ধীসহ নেতাদের আটক করে একটি বাসে বসানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অন্যদের ধরতে গেলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে এসে আবার রাস্তায় বসে পড়েন।
রাজধানীতে দিনভর চরম নাটকীয়তা, রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে আটকের পর, ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট দিল্লির জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় সমবেত হয়েছিল।
গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে খাড়গে বলেন, বিরোধীরা ‘ভোট চুরি’র বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাবে।
জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁর বাইরে বাস পার্ক করা ছিল এবং মধ্যাহ্নভোজের পর সাংসদেরা সেগুলোতে উঠে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। পুলিশ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সব রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। পথিমধ্যেই বিরোধী সাংসদদের বহনকারী বাসগুলো পুলিশ আটকে দেয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কোনো বিক্ষোভ করার জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। এ ধরনের অনুমতি চাওয়ার আবেদনগুলো প্রস্তাবিত কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের কাছে জমা দিতে হয়।
রাহুল গান্ধীও জানিয়েছিলেন, বিরোধী সাংসদেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন।
মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি গতকাল যেমনটি বলেছিলাম, প্রায় ৩০০ জন সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা জানান যে আমরা সেখানে বিক্ষোভ করতে পারব না। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত বিক্ষোভের স্থান যন্তর মন্তরে যাওয়া, সেখানে আবার একসাথে বসবো। আমরা দেশকে বলবো, আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন। মোদিজি, অমিত শাহজি, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।’