যমুনার কথা প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় একই দাগে ৬৬ ডিসিমাল জমির বিপরীতে ৭৬.৭৪ ডিসিমাল জমি খারিজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিরিক্ত ১০.৭৪ ডিসিমাল জমি খারিজ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নিজের জমির বিষয়ে সমাধান পেতে দিনের পর দিন ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুরছেন জমির মালিক শ্রী গোপাল চন্দ্র পাল।
জানা গেছে, ভদ্রঘাট মৌজার ২১৯৩ দাগের ১৭৪৫ খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৬৬ ডিসিমাল। তবে বিভিন্ন নামে খারিজ হয়েছে ৭৬.৭৪ ডিসিমাল জমি। ফলে ওই দাগে ১০.৭৪ ডিসিমাল জমি অতিরিক্ত খারিজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ওই দাগের জমির মালিকদের মধ্যে রয়েছেন পালপাড়া এলাকার শ্রী গোপাল চন্দ্র পাল, শ্রী অমল চন্দ্র পাল ও সুদেক কুমার পাল। তারা ওই দাগের ২৫.৭৫ ডিসিমাল জমি কিনেছেন। তবে একই দাগে জমির পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি খারিজ হওয়ায় নিজেদের জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৮ জুলাই কামারখন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন বরাবর একটি মিসকেস মামলা করা হয়। জমির মূল মালিক ছিলেন মহাদেব পাল। পরে তিনি মৃত আব্দুল বাতেনের কাছে ১২ ডিসিমাল জমি বিক্রি করেন। এরপর চলতি বছরের ১৮ আগস্ট মহাদেব পালের স্ত্রী শ্রীমতি বাসনা রানী পালের নামে ১০ ডিসিমাল জমি খারিজ করে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন।
নিজের জমির কাগজপত্র নিয়ে দিনের পর দিন কখনো ইউনিয়ন ভূমি অফিস, আবার কখনো উপজেলা ভূমি অফিসে ছুটছেন শ্রী গোপাল চন্দ্র পাল। জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তার দিন কাটছে বলে জানান তিনি।
শ্রী গোপাল চন্দ্র পাল বলেন, একটি দাগে টোটাল ৬৬ ডেসিমাল সম্পত্তি৷ সেই সম্পত্তি বিভিন্নভাবে ৭৬.৭৪ ডেসিমাল খারিজ হয়ে গেছে। খুব হতাশায় কাটছে দিন। আমি প্রতিদিন কাগজপত্র নিয়ে ইউনিয়ন আর উপজেলা ভূমি অফিসে দৌড়াচ্ছি। কর্তৃপক্ষ যদি সবকিছু যাচায় করে আমার জমি টুকু ফিরিয়ে দেন, তবে স্বস্তি পেতাম।
একই দাগে অতিরিক্ত জমি খারিজ হওয়ার বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, বর্তমানে সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে, তাই এখন এমন ভুল হয়না৷ তবে আগে ডিজিটাল পদ্ধতি ছিলনা৷ তাই বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত খারিজ হয়ে যেতে পারে। আগে ম্যানুয়ালি হতো, হয়ত নায়েব চেক করেননি বা ক্রসচেক করেননি৷ সেই ক্ষেত্রে কোন কোন নামজারি অনুযায়ী এসব হয়েছে, এসব বের করতে হবে। তারপর যেসব সঠিক নয়, সেগুলো বাতিল করার জন্য মিসকেস মামলা করতে হবে৷