শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার ৫০ বছর পর শাহজাদপুরে ফিরলেন বৃদ্ধ শামছু

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২.৫২ পিএম

মোঃ শাহান আলী, শাহজাদপুর সংবাদদাতা: 
মাত্র ১৩ বছর বয়সে অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন শামছু। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ৭০ বছর বয়সে ফিরে এসেছেন নিজের জন্মভিটায়। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের সাহাপাড়া মহল্লায় তাঁর ফিরে আসার ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আবেগ ও আনন্দ। দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা শামছুকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেয়ের জামাই মিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজ করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন শামছু। তিনি সাহাপাড়া মহল্লার মৃত গোলাম হোসেনের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে তৃতীয় সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শৈশবে অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার পর শামছুর বাবা ও ভাইয়েরা বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয় পরিবার। এরই মধ্যে তাঁর বাবা-মা, চার ভাই ও দুই বোন মারা গেছেন। বর্তমানে পৈতৃক বাড়িতে তাঁর ভাইদের সন্তানরা বসবাস করছেন। ছোটবেলায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া এক চাচার কথা তাঁরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনে আসছিলেন।

শামছুর বোন রুবি বেগম বলেন, “আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি, আমার ভাই বেঁচে আছেন এবং একদিন ফিরে আসবেন। জীবনের শেষ সময়ে ভাইকে ফিরে পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। তবে আফসোস, বাবা-মা ও অন্য ভাইবোনেরা তাঁকে দেখে যেতে পারলেন না।”

শামছু জানান, বাড়ি ছাড়ার পর প্রথমে ঢাকায় এবং পরে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। সেখানে দীর্ঘদিন ঠেলাগাড়ি ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা বর্তমানে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শামছু নিজে বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর পাশে কালনী বাজার এলাকায় বসবাস করেন।

এত বছর পর কেন বাড়ি ফেরেননি—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ না জানালেও মৃত্যুর আগে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং বাবার ভিটার মাটি স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান তিনি।

শামছু বলেন, “এখন তো মারা যাব। তাই মৃত্যুর আগে বেঁচে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এবং বাবার ভিটার মাটি স্পর্শ করে জীবনের পূর্ণতা পেতে এসেছি।”

নিজের বাড়ি কীভাবে চিনলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শামছু জানান, তাঁদের বাড়ি ছিল বড় মসজিদের পাশে। পরে মখদুমিয়া জামে মসজিদের কাছে এসে স্থানীয়দের কাছে খোঁজ করতে করতে নিজের বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিচ্ছেদ শেষে শামছুর ফিরে আসা যেন হারিয়ে যাওয়া এক অধ্যায়ের নতুন করে সূচনা করেছে। তাঁর ফিরে আসায় স্বজনদের মনে জেগে উঠেছে পুরোনো স্মৃতি, আর পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পুনর্মিলনের মুহূর্ত।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা