শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

আর ভিক্ষা করতে চান না আব্দুর রহমান, চান একটু সম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২.৫১ পিএম

যমুনার কথা ডেস্ক

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই স্বপ্ন থাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার। কিন্তু জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি পাবনার চাটমোহর উপজেলার বেস পাটিয়াতা গ্রামের আব্দুর রহমানের (৫০)। জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ভিক্ষাবৃত্তি করে। এখন বয়সের ভার আর অসুস্থ শরীর নিয়ে আর পারছেন না তিনি। তাই ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে চান, চান একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান, যেখানে কাজ করে জীবনের বাকি সময়টুকু সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারবেন।

জানা যায়, জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী আব্দুর রহমানের পরিবার ছিল অত্যন্ত অসহায়। ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিতে বাধ্য হন তিনি। দারিদ্র্য আর সীমাহীন কষ্টের মধ্যেই পার করেছেন জীবনের দীর্ঘ সময়। একসময় বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। তাঁদের দুই মেয়েকে মানুষের সহযোগিতায় বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের সংসার গুছিয়ে দিলেও নিজের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটেনি।

প্রতিদিন জীবিকার আশায় চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী মহিষলুটি মৎস্য আড়তে আসেন আব্দুর রহমান। মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে যা পান, তা দিয়েই চলে তাঁর জীবন। কিন্তু এই পথও তাঁর জন্য নিরাপদ নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে উঠে দাঁড়াতে পারেন না। আড়তের ব্যস্ত পরিবেশে চলাচলের সময় মানুষের ধাক্কা, এমনকি অটোরিকশার ধাক্কাও লাগে তাঁর শরীরে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতা বেড়েছে, কমেছে কাজ করার সামর্থ্য। প্রতিদিনের এই কষ্ট যেন আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুর রহমান বলেন, “আর ভিক্ষা করতে মন চায় না। শরীর অসুস্থ, বয়সও হয়েছে। এখন আর আগের মতো পারি না। কেউ যদি আমাকে একটা স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতাম। কাজ করে খেতে চাই, মানুষের কাছে হাত পাততে চাই না।”

স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহমান জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে অনেক কষ্ট করে জীবন চালাতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন তাঁর পক্ষে এভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁর জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে হয়তো তাঁকে আর ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে হবে না।

আব্দুর রহমানের এই আকুতি কেবল আর্থিক সহায়তার আবেদন নয়; এটি নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার একটি মানবিক আকাঙ্ক্ষা। সামর্থ্য অনুযায়ী কাজের সুযোগ পেলে তিনিও যে নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে পারবেন, সেই আশাতেই দিন কাটছে তাঁর।

সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতি আব্দুর রহমানের আকুল আবেদন—তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে তাঁর মতো অসহায় মানুষ নতুন করে বাঁচার সাহস পেতে পারেন।

ভিক্ষাবৃত্তি নয়, আব্দুর রহমান চান কাজের সুযোগ। করুণা নয়, চান নিজের শ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার। তাঁর এই ছোট্ট স্বপ্ন পূরণে সমাজের কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে বদলে যেতে পারে একজন অসহায় মানুষের জীবনের গল্প।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা