উল্লাপাড়া সংবাদদাতা:
এক পাশে বাজার, অন্য পাশে বসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাঝখানে একাধিক রেললাইন। এপাশ থেকে ওপাশে যাওয়ার জন্য নেই কোনো নিরাপদ পথ, নেই ফুটওভারব্রিজও। ফলে ট্রেন আসছে কি না দেখে কখনো দৌড়ে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের নিচের ফাঁকা জায়গা দিয়ে পার হচ্ছেন মানুষজন। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার যেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনে একাধিক রেললাইন থাকলেও যাত্রী ও পথচারীদের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা। স্টেশনের এক পাশে বাজার থাকায় প্রতিদিন কেনাকাটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে অসংখ্য মানুষকে রেললাইন পার হতে হয়। এদের মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
ট্রেনের সংকেত কিংবা গতিবিধি দেখে অনেকে দ্রুত লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। আবার স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলে সেটির নিচের ফাঁকা জায়গা দিয়েও ঝুঁকি নিয়ে পার হন কেউ কেউ। এতে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বই-খাতা কেনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া কিংবা স্কুলে যাতায়াতের জন্য তাদের নিয়মিত রেললাইন পার হতে হয়। নিরাপদ বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তাদের।
মোহনপুর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঈশিতা দৈনিক যমুনার কথা কে বলেন, স্কুলে যাতায়াতের সময় অনেক শিক্ষার্থীকে রেললাইন পার হতে হয়। লাইব্রেরি ও বাজার স্টেশনের ওপারে হওয়ায় বই-খাতা কিনতেও সেখানে যেতে হয়। ট্রেন আসছে কি না দেখে খুব সাবধানে লাইন পার হতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখানে দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
বাজার করতে আসা রহমান বলেন, প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে অনেক মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হন। মাঝেমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাঁর ভাষ্য, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চললেও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের মতে, একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হলে যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকটা কমবে। একই সঙ্গে রেললাইন পারাপারে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বলেন, লোকজন ঝুটি নিয়েই এই রেললাইন পারাপার হয়ে থাকে। স্থানীয়রা ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।