শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

গ্রামবাংলার চিরচেনা নৈসর্গিক সৌন্দর্যে শিশু গাছের সারি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫.৫৫ পিএম

ফাতেমা,রায়গঞ্জ সংবাদদাতা 
গ্রামবাংলার পথঘাট, মাঠ-ঘাট আর সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে গাছপালার সম্পর্ক যেন বহু পুরোনো। সময়ের পরিবর্তনে গ্রামীণ জনপদে অনেক কিছু বদলে গেলেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাটাগাড়ী হতে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের পিচ ঢালা রাস্তার দুপাশে রয়েছে সারি সারি পুরনো ঐতিহ্যের চিরচেনা সেই শিশু গাছের কিছু দৃশ্য। শিশু গাছ গুলো এখনো মানুষের মনে শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। তেমনই এক চিরচেনা দৃশ্য হলো রাস্তার পাশে সারি সারি শিশু গাছ।

দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুক চিরে চলে গেছে একটি আঁকাবাঁকা পথ। আর সেই পথের দুই পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু গাছগুলো যেন পথচারীদের নীরবে স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ঘন পাতার ফাঁক দিয়ে রোদের আলো মাটিতে পড়ে তৈরি করছে আলোর-ছায়ার অপূর্ব নকশা।
একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন সড়ক, বাঁধ ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রচুর শিশু গাছ দেখা যেত। কাঠের জন্য মূল্যবান হওয়ায় এ গাছের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও। পাশাপাশি বড় হয়ে ওঠা গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ছায়া প্রদান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

বর্ষায় শিশু গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি,শরতে নীল আকাশের নিচে সবুজ পাতার দোল খাওয়া কিংবা বিকেলের মৃদু বাতাসে ডালপালার দুলুনি,সব মিলিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতিতে তৈরি হয় এক প্রশান্ত পরিবেশ। পথ চলতে চলতে এমন দৃশ্য অনেকের মনেই এনে দেয় হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতি।

বর্তমানে নানা কারণে গ্রামীণ সড়কের পাশের পুরোনো গাছ কমে যাচ্ছে। নতুন সড়ক নির্মাণ বসতি সম্প্রসারণ ও অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটার ফলে অনেক জায়গায় আগের সেই সবুজ আবহ আর দেখা যায় না। তাই পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন করে বৃক্ষরোপণ করাও জরুরি।

বৃক্ষপ্রেমী মামুনর রশিদ বলেন,
গ্রামবাংলার সৌন্দর্যের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে গাছপালা।তেমনি তাড়াশ উপজেলার কাটাগাড়ি হতে দেশীগ্রাম ইউনিয়নে যাওয়ার রাস্তার পাশে সারি সারি শিশু গাছ শুধু পথের সৌন্দর্য বাড়ায় না,পথচারীদের প্রশান্তি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতার অনুভূতিও তৈরি করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত পুরোনো গাছগুলো যত্নের সঙ্গে রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা। প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে গাছের প্রতি ভালোবাসা শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রকাশ করতে হবে।

বৃক্ষপ্রেমী অভিজিৎ কুমার দাস বলেন,
গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামবাংলার পথের পাশে সারি সারি শিশু গাছ আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ঐতিহ্যেরই প্রতিচ্ছবি। এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দেয়, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং পরিচর্যা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু চোখকে প্রশান্ত করে না, মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গ্রামবাংলার পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু গাছের সারি তাই কেবল একটি দৃশ্য নয়,এটি আমাদের শেকড়,স্মৃতি ও চিরচেনা বাংলার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা