শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬.২৮ পিএম

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা রাধানগর সানসেট এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় একাধিক বালুঘাট গড়ে উঠেছে। এসব ঘাটে দিন-রাত বাল্কহেডের মাধ্যমে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে মজুত করা হচ্ছে। পরে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনবসতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জের কাজিপুর অংশে সরকারিভাবে একটি বালুমহল রয়েছে। তবে পিংনা রাধানগর সানসেট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ফেলা বালু ওই ইজারাকৃত বালুমহল থেকে আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাল্কহেডের মাধ্যমে নদী থেকে বালু এনে এসব পয়েন্টে মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাধানগর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বালু মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব পয়েন্টে বাল্কহেডে করে বালু আনার পর ড্রাম ট্রাকে করে তা পরিবহন করা হচ্ছে। দিন-রাত বালুবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকায় বালু ব্যবসার ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয়রা জানায়, এসব বালুঘাটের সঙ্গে যুবদলের এক নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার ইন্ধনেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে।

তারা আরও জানায়, সরকারি নিয়ম মেনে বালুমহল ইজারা দেওয়া হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু ইজারার বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলন কিংবা অনুমোদনহীন স্থানে বালু মজুত ও বিক্রি করা হলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

এছাড়াও যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং বালুবাহী বাল্কহেডের নিয়মিত চলাচলকে কেন্দ্র করে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীতীরের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দিন-রাত বালুবাহী ড্রামট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় সড়ক ও আশপাশের পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বসতবাড়ির কাছ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করলে ধুলাবালি, শব্দদূষণ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বালুঘাট পরিচালনা ও বালু পরিবহনের সুবিধার্থে এলাকার একটি মসজিদের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, কিছু স্থানে মানুষের বাড়িঘরের ওপর দিয়ে রাস্তা বের করে বালু পরিবহন ও বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, চলাচলের পথটি বৈধ কি না এবং ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী কি না – এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “বালু ব্যবসার কারণে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রভাব খাটিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ ব্যবহার করলে কিংবা অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করলে তার আইনগত ভিত্তিও যাচাই করা প্রয়োজন।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা রাধানগর সানসেট এলাকায় বালু উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত সব পয়েন্টের বৈধতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে, উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে কি না, সরকারি ইজারার শর্ত মানা হচ্ছে কি না এবং রাজস্ব যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা সুভাস জানান, আমি একা বালুর ব্যবসা করি না। আরো অনেকেই করে। তবে আমি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রার্থী হওয়াতে শত্রুতা বেড়ে গেছে। তাই অনেকেই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে উপজেলা যুবদলের নুন্যতম সম্পর্ক নেই। স্থানীয় সুভাষ নামে এক ব্যক্তি যুবদলের নাম ব্যবহার করে যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে । অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) লিজা রিসিল বলেন, বিষয়টি আমি জানলাম, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা জানান, আপনাদের কাছে যদি প্রমান থাকে, তাহলে আমাকে দিন, আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা