বেলকুচি সংবাদদাতা:
সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের বেলকুচি পৌর এলাকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মুকুন্দগাতি বাজার ও বাসস্ট্যান্ড। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এই ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে। তবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব আর যত্রতত্র অবৈধ যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানটিতে যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দফায় দফায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান। ভুক্তভোগীদের দাবি অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক প্রশস্ত ও স্ট্যান্ড স্থাপন করলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে।
পথচারীরা বলেন, এই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ সদর, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর উপজেলায় যাতায়াতের জন্য বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও এ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় মুকুন্দগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা সড়কে এখন নিত্যদিনের চিত্র যানজট ও স্থবিরতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন মুমূর্ষ রোগীসহ সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন। যানজটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি সময় অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকরা বলেন, যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা ও সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এছাড়া রাস্তা প্রশস্ত না হওয়াও আরেকটা সম্যসা। রিক্সা ও ভ্যানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও রাস্তা প্রশস্ত করতে পারলে জনভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
বেলকুচি উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক কালু প্রামাণিক বলেন, যানজট নিরসনে রিক্সা-ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। যত্রতত্র ভাবে চলাচলের কারনে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া ছোট ছোট ছেলেরা চালক হওয়ায় তারা কোন নিয়মনীতি মানে না। পৌর কর্তৃপক্ষ রিক্সা স্ট্যান্ড ও নাম্বার প্লেট দিলে এ সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, যানজট দূর করতে ইতিপূর্বে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। অটোরিক্সা জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পার্কিংয়ের স্থান তৈরি এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। পাশাপাশি রিক্সা ও ভ্যানগুলোর চালকদের সচেতন হতে হবে।