শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের টহল পিকআপের পাশে যুবলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় জরিমানা ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ উঠে এলো একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা জামালপুরের পিংনায় অবৈধ বালুঘাটের ছড়াছড়ি, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সিরাজগঞ্জে গ্রামীণ নারী দিবসে সমাবেশ ও মেলা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দখল করা ঘরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিল প্রশাসন চাঁদা না পেয়ে মারধর করায় ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৬ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক নারিতায় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত

সাইকেলের দুই চাকায় সংসারের চাকা ঘোরান সিরাজুল

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২.৩৯ পিএম

উল্লাপাড়া সংবাদদাতা
একটি সাইকেল, দুই পাশে কাপড়ের গাঁটরি আর জীবিকার তাগিদ—এই তিনকে সঙ্গী করেই কেটে যাচ্ছে সিরাজুল ইসলামের জীবনের দুই দশক। প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে কাপড় বিক্রি করেন। কখনো বেচাকেনা ভালো হয়, কখনো প্রত্যাশামতো ক্রেতা মেলে না। তবু থেমে থাকে না তাঁর সাইকেলের চাকা। কারণ, এই চাকার ঘূর্ণনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ।

সিরাজুল ইসলামের বয়স ৫০ বছর। বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঘোপালপুড় গয়হাট্টা পূনিমাগাঁতী গ্রামে। প্রায় ২০ বছর ধরে সাইকেলে কাপড় নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ব্যবসা করছেন তিনি। নেই কোনো স্থায়ী দোকান, নেই বড় পুঁজি। নিজের শ্রম আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই তাঁর ব্যবসার মূল শক্তি।

প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছান সিরাজুল। কখনো গ্রামের মেঠোপথ ধরে, কখনো পাকা সড়ক দিয়ে এগিয়ে যান। বাড়ির উঠানে কিংবা রাস্তার পাশে সাইকেল থামিয়ে ক্রেতাদের দেখান কাপড়। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় বিক্রি করেই চলে তাঁর দিন।

বিক্রি হাজার টাকার, লাভ কয়েক শ
সিরাজুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তাঁর কাপড় বিক্রির পরিমাণ প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তবে বিক্রির সব টাকা তাঁর লাভ নয়। খরচ বাদ দিয়ে কোনো দিন লাভ থাকে ৩০০ টাকা, আবার কোনো দিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

এই সামান্য লাভ থেকেই তাঁকে পরিবারের খরচ চালাতে হয়। ফলে প্রতিদিনের বেচাকেনা তাঁর কাছে শুধু ব্যবসার হিসাব নয়, সংসার চালানোরও হিসাব।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাপড় বিক্রি করছি। এই ব্যবসা করেই সংসার চালাই। কোনো দিন লাভ একটু বেশি হয়, আবার কোনো দিন কম হয়। তবু সংসারের কথা চিন্তা করে প্রতিদিন বের হতে হয়।

নিজের উপার্জনে দুই মেয়ের বিয়ে
সিরাজুলের চার ছেলে-মেয়ে। কাপড় বিক্রি ও কিছু জমি চাষ করে পাওয়া অর্থ দিয়ে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার করছেন।
সন্তানদের বড় করা, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করতে শিখিয়েছে। প্রতিদিনের আয় সীমিত হলেও সংসারের দায়িত্ব পালনে বিরতি নেই তাঁর।

বয়স ৫০ বছর। এই বয়সেও প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় তাঁকে। রোদ-বৃষ্টি, ক্লান্তি কিংবা কম বেচাকেনা—সবকিছুর মধ্যেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। কোনো দিন ভালো বিক্রি হলে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। আবার কোনো দিন লাভ কম হলে পরদিনের আশায় নতুন করে প্রস্তুতি নেন।
ছোট ব্যবসা, বড় দায়িত্ব
গ্রামের পথে পথে ঘুরে কাপড় বিক্রি করা সিরাজুলের কাছে নিছক পেশা নয়; এটি পরিবারের দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ এক পথচলা।

তাঁর মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে সচল রাখেন পরিবারের জীবনযাত্রা।
সিরাজুলের জীবনে বড় কোনো ব্যবসা কিংবা সঞ্চয়ের গল্প নেই। আছে প্রতিদিনের পরিশ্রম, সীমিত আয়ের হিসাব আর পরিবারের জন্য দায়িত্ব পালনের চেষ্টা। তাঁর সম্বল সেই পুরোনো সাইকেল আর কাপড়ের গাঁটরি।
দিন শেষে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন সিরাজুল। পরদিন আবার বের হবেন, ঘুরবেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। এভাবেই দুই দশক ধরে চলছে তাঁর জীবনসংগ্রাম। সাইকেলের দুই চাকা ঘুরিয়ে সংসারের চাকা সচল রাখার এই চেষ্টাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা