ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
“মঙ্গল আলোকে উদ্ভাসিত আমাদের সকল কর্মকাণ্ড”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন নাট্যচক্র গ্রুপ থিয়েটারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী রজতজয়ন্তী নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টায় পৌর ভাসানী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাট্যচক্র গ্রুপ থিয়েটারের উপদেষ্টা মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের নাট্যবিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম রুবেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও হাজী মো. আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী মো. আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন শেখ এবং বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হাজী মো. আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন সব সময় আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। নাট্যচক্র গ্রুপ থিয়েটারের ২৫ বছরের পথচলা সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটি নাট্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
আগামী দিনেও নাট্যচক্র গ্রুপ থিয়েটার নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
বক্তারা নাট্যচক্র গ্রুপ থিয়েটারের দীর্ঘ ২৫ বছরের সাংস্কৃতিক পথচলার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নাট্যচর্চার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে সংগঠনটির ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী এ রজতজয়ন্তী উৎসবকে ঘিরে নাট্যকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।