রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলার ১২ ঘণ্টার মাথায় আসামি গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ১ হাজার ৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় তিন জেলার ৭০ চরমপন্থী আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সমস্যা থাকবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের আশা, তবুও শঙ্কায় কৃষক পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন সিরাজগঞ্জে নাট্যচক্রের রজতজয়ন্তী উৎসব উদযাপন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সিরাজগঞ্জে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের আশা, তবুও শঙ্কায় কৃষক

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২.৪৬ পিএম

যমুনার কথা প্রতিবেদক
​শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের ফসলের মাঠগুলো সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সারি সারি বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা আর বেগুনের চারা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শীতের সবজির বাম্পার ফলনের হাতছানি থাকলেও স্বস্তিতে নেই স্থানীয় কৃষকেরা। সার, কীটনাশক ও সেচের জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরদসসিকা গ্রাম ঘুরে দেখা যায় শীত কালীন আগাম সবজির মাঠ। চারদিকে চোখ মেললেই দেখা যায় দিগন্তজোড়া সবজির আবাদ। ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, নিড়ানি আর সেচের পাইপ হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন চাষিরা। কেউ জমিতে পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চারা গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সবজির চারা দ্রুত বাড়ছে। মাঠের এমন দৃশ্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটালেও মনের ভেতরে চেপে বসেছে লোকসানের ভয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সবজি চাষে আগের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। রাসায়নিক সার, রোগবালাই দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক এবং সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম অনেকটাই বাড়তি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দিনমজুর বা কৃষি শ্রমিকের চড়া মজুরি। ফলে এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদনে খরচ দাঁড়াচ্ছে, ফসল ওঠার পর বাজারে ভালো দাম না পেলে খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে। ন্যায্যমূল্য না পেলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

শুধু কামারখন্দের চরদসসিকাই নয়; রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এখন চলছে শীতকালীন সবজি আবাদ ও পরিচর্যার ধুম। অনেক এলাকায় আগাম জাতের সবজি তুলে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে, আবার অনেক স্থানে কেবল চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

​মাঠের এমন পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন জানান, শীতের সবজি আবাদে কৃষকদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রোগবালাই দমন, সুষম সারের পরিমিত ব্যবহার ও আধুনিক চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

সব মিলিয়ে মাঠে সবুজ ফসলে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দুললেও, সেই স্বপ্ন কতটা সফল হবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে বাজারের উপর নির্ভর করে। সার ও তেলের বাজারে নজরদারি জোরদার এবং প্রান্তিক চাষিরা যাতে সরাসরি পাইকারি বাজারে ভালো দাম পান, সে বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট © ২০২৬ | যমুনার কথা