টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
অনুমতি ছাড়াই টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি কড়ই ও মেহগনি গাছ কর্তণ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে। গাছগুলো কিনে নিয়েছেন স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া। হাসপাতালের সীমানার ভিতরে সরকারি গাছ কাটতে হলে পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন ও বনবিভাগের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হলেও তার কোন কিছুই মানেননি ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এদিকে নিয়ম বহির্ভূত হাসপাতালের পুরনো গাছ কেটে বিক্রি করায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অনেক পুরনো কড়ই, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। যা হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের ছায়া দেয়াসহ শোভাবর্ধন করে আসছিলো। হঠাৎ করেই শুক্রবার সকাল থেকে বাবুল নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী গাছগুলো কাটা শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিলে গাছ কাটা বন্ধ রেখে চলে যান তিনি।
সরজমিনে দেখা যায়, গাছের বড় বড় গুড়ি ও ডালপালা হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মেহগনি ও কড়ই গাছের উপরের পুরো অংশ কাটা হলেও গোড়ার কিছু অংশ বাকি রয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়ায় বাকি অংশ কাটতে পারেনি এবং কর্তণকৃত গাছ নিয়ে যেতে পারেনি কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের পুরনো অনেক গাছ রয়েছে হাসপাতালের ভিতরে। যা আগত রোগী ও স্বজনদের ছায়া দিয়ে আসছিলো। শোভাবর্ধনও করেছিলো হাসপাতালের। এভাবে গাছ কেটে ফেলায় হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। সরকার যেখানে গাছ রোপনে জোর দিয়েছে, সেখানে গাছ কেটে ফেলা সত্যিই কষ্টদায়ক। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে হাসপাতালের সরকারি গাছ কাটতে হলে বনবিভাগের লিখিত অনুমতি ও হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন থাকার কথা থাকলেও কোনটিই মানেননি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিন।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বনবিভাগ ও সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। গাছ কাটা হয়নি।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে কোন চিঠি পাইনি বা আমাকে মৌখিকভাবেও অবগত করা হয়নি।