তাড়াশ সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলের শুঁটকির চাতালগুলোতে উৎপাদন দিন দিন কমে আসছে। ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক চাতাল এবং জীবিকা হারাচ্ছেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। বিগত দিনে চলনবিলে দেশীয় প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমান সময়ে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। দেশীয় মাছের চরম সংকট, উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তার অভাবে। একসময়ে চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, গুরুদাসপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য শুঁটকির চাতাল। বাঁশের মাচায় সারি সারি মাছ শুকানো, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর চারপাশের শুঁটকির ঘ্রাণে মুখর থাকত পুরো জনপদ। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের আকাল দেখা দেওয়ায় সেই জমজমাট দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না বললেই চলে।
উৎপাদনে প্রায় ৩৯ শতাংশ পতন:
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উল্লাপাড়া ও তাড়াশের ৬০টি শুঁটকি চাতালে মোট ৩০২ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছিল। কিন্তু পরের অর্থবছরে তা নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৮৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই অঞ্চলে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নেতিবাচক প্রভাব আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।
লোকসানের মুখে চাতাল মালিকরা:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি ও শুটকির চাতাল মালিকসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
চাতাল মালিক আলমাছ আলী, রফিক এবং মনজেল হোসেন আক্ষেপ করে জানান, ”মাছের তীব্র সংকট তো রয়েছেই, পাশাপাশি লবণের দাম ও শ্রমিকের মজুরিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ব্যবসা করতে গিয়ে আমাদের বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছর মাছের যে পরিমাণ সংকট, তাতে সামনের সিজনে হয়তো আর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, এ পর্যন্ত আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুদান বা ভর্তুকি পাইনি।” কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে শ্রমিকরা চাতালগুলোতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এলাকার বহু দরিদ্র নারী-পুরুষ। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ও অনেক চাতাল বন্ধ হয়ে পড়ায় এসব শ্রমজীবী মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, অবৈধ জালের ব্যবহার রোধ এবং জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী এই শুটকি শিল্প চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।